Travel : Bangla Tourism

কেওক্রাডংয়ে এক রাত...

এবারের প্রোগ্রাম কেওক্রাডং বা ক্যকক্রাঃদং। যার উচ্চতা ৩,১৭২ ফুট। পাহাড় চূড়ায় অভিযান। কেওক্রাডংয়ের অবস্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবন বাংলাদেশের আরাকানি পার্বত্য অঞ্চলে। গ্রিনলিফ ট্যুরস টিমের ২০ জন কেওক্রাডং পরিভ্রমণে রয়েছেন। নানা পেশার নানা মানুষ নিয়ে এই দলটি। উদ্দেশ্য একটি,  প্রকৃতির রহস্যের মাঝে শারীরিক সামর্থ্যকে বাজিয়ে নেয়ার ৫ রাত ৪ দিনের এই ভ্রমণ আয়োজনে  কেওক্রাডং শীর্ষে দাঁড়িয়ে বাংলা দেশের সব স্তরের কাছে বিনীত আহবান পৌঁছানোর সূচনা :‘সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে ভোট দিন।’ কার্যক্রমে রয়েছে দুর্গম অরণ্য পাহাড়ি পথে সূর্য আলোয় এবং চন্দ্রালোকে ট্রেকিং পাহাড় চূড়ার শৈলারোহণ ও অবরোহণ কৌশল প্রশিক্ষা গ্রহণ, পাহাড় চূড়ায় গ্রিনলিফ অর্থাৎ সবুজপাতার আচ্ছাদনে তাঁবুর বদলে বিভোগ করে রাত্রিযাপনের কৌশল রপ্ত করার অনুশীলন করা। হেমন্তের প্রচণ্ড কনকনে শীত বাতাসে কেওক্রাডং-পাহাড় চূড়ায় এক রাত কাটানো। এর আগে কেউই কেওক্রাডং-এ রাত্রিযাপন করেননি।

আমাদের সঙ্গে রয়েছেন বম উপজাতীয় নৃ-গোষ্ঠীর গাইড লালমো’ন ও ছোট গাইড শুকুর আলী। লাল মো’ন সহজ-সরল মানুষ। বাংলা ভাষা বোঝে এবং ভাঙা ভাঙা বলতে পারেন। এ অঞ্চলের মারমা বম ভাষা বোঝা বড় কঠিন। তাই আদিবাসী গাইড নিয়ে চলা ভালো। শুকুর আলী বাঙালি মুসলিম রুমার অধিবাসী।

২৫ নভেম্বর যাত্রা শুরু। রাজধানী ঢাকায় এসে ২০ জন এক হলাম। রাতের গাড়িতে চড়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবানে পাড়ি দিতে হবে। রাত জেগে পৌঁছালাম বান্দরবান। তারপর চাঁন্দের গাড়ি’ তে ঝোলা বাদুড় হয়ে বান্দরবান থেকে কৈত্থাংছড়ির নৌকা ঘাটে এসে নামলাম। ঘাট পাড়ে কয়েকটা চা দোকান। দোকানে কলা বিস্কুটও পাওয়া যায়। এখান থেকেই কলের সাম্পান নৌকায় সাংগু (শঙ্খ) নদীর উজান পথে রুমা উপজেলার সদর ঘাটে যেতে হয়। নদীপথে মনোরম পাহাড় দৃশ্য। যে কোনও পর্যটককে বিমোহিত করে তুলবে। কার্সিয়ং, কালিম্পংয়ের চেয়ে কমতি নয় এ সাংগু নদীর অববাহিকা। পাহাড় ঢালে জুম ক্ষেত দৃশ্য নদীকে বুকে নিয়ে। কলের সাম্পান থেকে নেমে পিঠে বোঝা ব্যাগ (হ্যাভারস্যাক) নিয়ে গাইড লালমো’ন বম আমাদের নিয়ে চলল লাইমি হিল সাইড রিসোর্টে। নিউ ইডেন রোড ধরে ওপরের পথে হাঁটছি আর নাকে ঢুকছে নাপ্তি শুঁটকির পচা গন্ধ। বেশ ভালো ব্যবস্থাপনা। রিসোর্টটি আরও একটু সাজানো-গেছোনো হলে পর্যটকদের জন্য ভালো হতো। উঁচু হিল টপে সমস্যাটা বিশেষ করে পানি স্বল্পতা। পরের দিন সকালে চান্দের গাড়িতে বগালেকের পথে কয়েক মাইল গেলাম। বিপজ্জনক চড়াইউৎরাই ভেঙে রুমা থানা ট্যুরিস্ট ডাক বাংলো হয়ে ২ কিমি রুমার দক্ষিণে পথ এগিয়ে নামলাম। তারপর হাঁটা পথ। শুকনো পথ। কোথাও জলঝিরি নেই। পথচলায় এটা বিপজ্জনক বটে। যদিও হাফ্ লিটার পানি বোতলে রয়েছে। রফিকুল ইসলাম বৃদ্ধতরুণ। জোস আছে হাঁটায়। তবে আমার চেয়ে বড় তরুণ আর এ দলে কেউ নেই।

মধ্যাহেœর সূর্য তখন মাথার উপর। কাঠ ফাটা রোদ। বুকভাঙা চড়াই পথ। আকণ্ঠ তৃষ্ণা। অরণ্যাবৃত শুকনো পাহাড় ঢাল। পাখিদের কুজন। দেশী শালিক, চড়াই, ধূসর মাথাওয়ালা হটটিটি, মাছরাঙা, ফিঙে, টুনটুনি, দোয়েল, সবুজঘুঘু, বন মোরগ, টিয়া, চিল, কাক দেখতে পেলাম। মাঝে-মধ্যেই সাপ জিংলাপোড়া, লাউডুগি, বাঁশীনি, সিঁদুর চূড়া আরও নাম না জানা চিকন চিকন সাপ দেখতে পেয়েছি। তবে সবই বিষধর সর্প প্রজাতির। তবে এ দুর্গম পথে ঝোপে-ঝাড়ের আড়ালে এবং শুকনো পাতায় লুকিয়ে থাকে। এ অঞ্চলে গোখরা, ময়াল, অজগর, গিরগিটির মতো তক্ষক সাপও রয়েছে। নানা ধরনের পোকামাকড়ও চোখে পড়ল। জোঁক তো আছেই। পথে কোথাও কোথাও একহাতি লম্বা প্রজাতির কেঁচো চোখে পড়েছে। এ অঞ্চলে নানা রঙের প্রজাপতির ডানামেলে ওড়ার খেলা দেখতে পেলাম। প্রফেসর আফজাল কিসমিস দিল হাতে। খেলাম। বুকফাটা চড়াই বগালেকে পৌঁছানোর দু’কিলোমিটার আগে। পাহাড় চড়তে এই ফরমুলাটা আমার জানা যে, ‘কষ্ট পথের পর আনন্দ-মুগ্ধ পথ’ ।

নোনা ঘাম মাথা থেকে গাল বেয়ে ঝরছে পাহাড়ের মাটিতে। চড়াই শেষে দেখি অপূর্ব সরোবর। বগালেক। নীল সবুজ ছায়াভাসা মোহনীয় আয়না দৃশ্যপট। রূপকথার মতো। বগালেক নিয়ে কিংবদন্তি গল্প আছে : প্রাচীনকালে এখানে পাহাড়ি বনবাসীরা বাস করত। একদিন পাহাড়ে প্রকাণ্ড একটি সাপ শিকার করে। সে সর্পের শিরñেদ করে প্রকাণ্ড দেহ মাংস দিয়ে গ্রামের সবাইকে নিয়ে ভোজ আনন্দে মেতে ওঠে। সবাই খেয়েছেন কিন্তু এক বৃদ্ধা শুধু সে মাংস ভক্ষণ করলেন না। সেই রাতটাই হল কাল। অভিশাপে গ্রামসহ সবাই তলিয়ে গেল পাতালে। সৃষ্টি হল হ্রদের। শুধু বেঁচে রইলেন সেই বৃদ্ধা। লঞ্চেনের  ভাগীনা নাথন সাইন বললেন অনেক বিদেশী বিশেষজ্ঞ পর্যটক এসে বগালেকের গভীরতা মাপার চেষ্টা করেছেন কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। তলদেশ অতলেই রয়ে গেছে। ঝাঁঝরি নামে একপ্রকার জলজ শ্যাওলা রয়েছে এখানে। বড় বড় পুরোন মাছও রয়েছে। দুই আড়াই মণ ওজনের। কেউ কখনো বন্দুক নিশানায় মেরে খেয়েছেন লোক মুখে শোনা যায়।

আমরাও এই হ্রদের শীতল পরিচ্ছন্ন পেয়জলে অবগাহন করলাম। সরোবরে নীল রঙের শাপলা ফুটে আছে। উঁচু পাহাড় বেষ্টনিতে  ঘেরা বগালেক (২০০০ ফুট)।
রাতে সবাই মিলে বগালেক প্রদক্ষিণ করলাম। নাইট মার্চের অনুশীলন করলাম। রাতে চাঁদের আলোয় স্বপ্নপুরী হয়ে ওঠেছে বগালেক।
সকালের সূর্য ওঠার আগেই চিংড়ি ঝিরির পথে দার্জিলিং পাড়া হয়ে কেওক্রাডং-এর পথে যাত্রা করলাম।

কেওক্রাডং শব্দটি মারমা ভাষার। এর বাংলা হচ্ছে সবুজের পাহাড়। তাজিংডং শব্দটিও মারমা ভাষায় এর বাংলা অর্থ হল চির সবুজের পাহাড়। একেই বিজয় পর্বত নাম দেয়া হয়েছে। ২০০৫ সালে  আমাদেরই  গ্রিনলিফ ট্যুরসের লিডার সুব্রত দাস নীতিশ দাবি করছেন মোদক পার্বত্য রেঞ্জে মোদক ময়াল (৩,২৯২ ফুট) ইদানীং ২০০৯ সাকা হাফং/তেলেংময়/ট্যালাংময় মোদক ময়াল পর্বতের পাহাড় রিজের নাম (৩,৪৬৫ফুট জিপিএস রিডিং/ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিযাত্রী দল : ২৫.১১.১০)। বাংলাদেশের সুনামী পর্বতাভিযাত্রী মীর সামছুল আলম বাবু বলছেন, মোদক ময়াল ম্যাপে উল্লিখিত নাম এবং এর উচ্চতা ৩,৪৪৫ ফুট। আমার প্রশ্ন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখার মধ্যে কোনটি সর্বোচ্চ পর্বত উচ্চতা!(?)। দ্বন্দ্বে আছি। আমার দাবি এ বিষয়ে সরকারি ভূমি জরিপ কর্তৃপক্ষকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভূগোল বিভাগ প্রধানদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নয়তো লজ্জা হয়ে থাকবে বিষয়টি। বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে জানতে পারলাম  সরকারিভাবে তাজিংডং সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ বিজয় হিসেবে রেকর্ডেড, কিন্তু বেসরকারিভাবে কেওক্রাডং (৩,১৭২ ফুট) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড় চূড়া, অবশ্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রদের মাপজোখে ৩,২৪০ ফুট/৯৮৭.৫৫মি.) আর মোদক ময়াল/সাফা হাফং (সাকাহাফং)/ট্যালাংময় (ত্যালাংময়) হচ্ছে সর্বোচ্চ স্থান। যেহেতু এ স্থানটি কোন পাহাড়ের চূড়ায় নয় তবে বিদেশী কোন পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত একটি স্থানমাত্র। আমিও এভারেস্টার মুসার  মন্তব্যকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েই সায় দিচ্ছি। আবার পা চালিয়ে যেতে থাকলাম চিংড়ি ঝিরির পথে  একটি সুড়ঙ্গ পথ র্অথাৎ পটহোল রয়েছে। তার নাম দীনপুই মুংবা বাংলা অর্থ বাদুড় গুহা। বনপথে হাঁটছি। গাইড লালমো’ন পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজকে বেশ লাগছে। থ্রিলফুল অ্যাডভেঞ্চার ট্রেকিং। চিংড়ি ঝিরির পথে বোল্ডার পাথে একটু ওপরে সুদৃশ্য ঝর্ণাধারা। নির্জন নীরবতার নিসর্গ প্রকৃতি-মহল। মনটাই মুগ্ধ হয়ে যায় ঝর্ণা ধারায় ঝিরিঝিরি শব্দে।

ব্যাগপিঠে দলবেঁধে ঝিরি পেরিয়ে দার্জিলিং পাড়ার অভিমুখে পথ হাঁটা ধরলাম। দিগন্ত বিস্তৃত নয়নাভিরাম সবুজের দৃশ্য। শাল, সেগুন, পিয়াল, চাপলিশ, বাঁশেরর ঝার বন। মাঝে-মধ্যেই মনে হচ্ছে সিকিম হিমালয়ের যেন কোন পথ ধরে হাঁটছি আমরা। কিছুদূর হাঁটার পর বাঁ দিকে চলে গেল সাইকত পাড়া-র পথ। আমরা সোজা চলছি কেওক্রাডং-এর পথে। ধনুক বাঁকা কনভেক্স স্লোপ বেয়ে ওঠে পৌঁছে গেলাম দার্জিলিং পাড়ায়। ছোটখাটো মারমা, বম এবং ত্রিপুরা আদিবাসী অধ্যুষিত একটি গ্রাম। চার্চ রয়েছে। পানি সংকটও রয়েছে। দূর থেকে পানি বহন করে আনতে হয়।

হালকা চা-পানাহার বিরতির পর কেওক্রাডংয়ের পথে হাঁটা শুরু। বনবিলাসী চড়াই হাঁটা। এখন তিন হাজার ফুট ওপর দিয়ে হাঁটছি। চড়াই ভাঙা শেষ হলেই চূড়ায় পৌঁছে যাব।
একটি উঁচু বিন্দুতে পৌঁছালাম অভিযাত্রীরা সবাই। সব প্রকৃতি প্রেমিকদের আহ্বান জানালাম ‘সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে ভোট দিন’। তারপরই আনন্দ উল্লাস  কেওক্রাডং এখন হৈ-আনন্দে ভাসছে। খাওয়া-দাওয়ার পর অনেকে নেমে গেলেন দার্জিলিং পাড়ায় রাত্রিবাসের জন্য। দশজন রয়ে গেলাম চূড়ায় রাত্রিবাস করব বিভোগ করে। খোলা অবজার ভেটারিতে রাতকাটাবে সবাই। ব্যতিক্রম তিন। আমি ডা. আমিনুল এবং লিডার নীতিশ বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পাতা দিয়ে প্লাস্টিক সিট লাগিয়ে প্রচণ্ড কনকনে শীতবাতাসে  রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নিলাম। কিছু মারমা ভাষাও শিখলাম।

অপূর্ব সূর্যাস্ত দৃশ্য। পশ্চিম আকাশে পলাশ  রঙের মেঘ ঝুলছে। নীরব পাহাড় প্রকৃতি। সরু পথে নেমে এলাম পাশিংগ্রাম (৩,১০০ ফুট) বম এবং মারমা আদিবাসীদের জীবনযাত্রা দেখার জন্য। এটাই সম্ভবত পার্বত্য অঞ্চলের সর্বোচ্চ গ্রাম। জনপদটি নতুন গড়ে ওঠছে। পানি সংকট ভীষণভাবে রয়েছে। পানির জন্য হয়তো এ গ্রামেরস্থান পাল্টে যাবে। এ অঞ্চলে জুম চাষ, অদ্রক বা আদা এবং হলুদ উৎপাদন খুব হয়। এখানে সুস্বাদু পেঁপের চাষ হয়। সূর্যাস্তের পর চন্দ্রের আলোয় ফিরে এলাম কেওক্রাডং পাহাড় চূড়ায়। প্রচণ্ড হাড়কাঁপানো হেমন্তের হিমভেজা বাতাস। খোলা আকাশে চাঁদ তারা জ্বলজ্বল করছে মুক্তোর মতো। জ্যোৎøায় কিছু পাহাড়ের চূড়া দেখা যাচ্ছে। তার নিচে স্বপ্ন নিশিকালো। সারা রাত কাটলো জ্যেৎøাপ্লুত শোভা সুন্দরীর অনুভব দৃশ্য দৃষ্টিতে। ভোরের আকাশে সূর্যের জাদুকরী আলো। মেঘ লাল। নীরব শান্ত পৃথিবী।

বাংলাদেশের পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয়। বাতাস উত্তাল। এখন নামার পালা উৎরাই পথে। আজ দার্জিলিং পাড়া হয়ে সাইকত পাড়ায় রাত্রিযাপন। আঁকাবাঁকা পথ উৎরাই বেয়ে নেমে এলাম সাইকত পাড়ায়। সাংচুয়ান্ বম কারবারীর বাড়িতে আশ্রয় নিলাম। জুমবিন্নি চালের ভাত মোয়া (নামটা আমারই দেয়া) বেশ লাগছে। বেশ লাগছে কারবারীর বাড়িতে লাগান সপ্তক টকমিষ্টি চেরি ফলের মতো কারো লাল দেখতে এবং খেতে। খিদে-পেটে সবই সুস্বাদু। গ্রামটি সুন্দর গোছান এবং পরিচ্ছন্নও বটে। জুমিরা খামার থেকে এসে গ্রামের মধ্যে একটি ঝিরি আছে সেখানে উদাস মুক্ত øান সেরে নিচ্ছে। শেষরাত ৩টায় সবাই টর্চ জ্বালিয়ে বগা মুখের দিকে নামতে শুরু করলাম। যেন আলোর মিছিল সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে সর্পিল গতিতে নামছে। বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীমও রাত্রে এভারেস্ট অভিযাত্রী দলের সঙ্গে এমনি ভাবেই এভারেস্ট চূড়ার দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন দুর্গম তুষার আচ্ছাদিত পর্বতের গা বেয়ে। বগামুখে এসে পৌঁছালাম ঝিরির সঙ্কটময় পথ বেয়ে তখন সকালের সূর্য উজ্জ্বল হয়েছে।  সার্থক হল আমাদের কেওক্রাডং দুর্গম পাহাড় সবুজে ময়মনসিংহ গ্রিনলিফ ট্যুর্সের পাহাড় অভিযান।